Thursday, 3 August 2017

ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের বন্যা, কমছে রাজকোষের ঘাটতি, বাড়ছে টাকার দাম





কলকাতাঃ- ভারতবর্ষের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর হল বিরোধী দলের সমর্থকদের ভারতের সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করার জন্য একটা হট টপিক কিন্তু এই বিদেশ সফরই আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় মুদ্রার দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ শুনে ভাবছেন তো কয়েকশো কোটি খরচ করে বিদেশ সফর করার ফলে কি ভাবে দেশের রাজকোষের ঘাটতি কমতে পারে ! কিছু ভুল হচ্ছে না তো ? না একেবারেই আপনার ভুল হচ্ছে না

  ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই একাধিক দেশে কূটনৈতিক সফরে গিয়েছেন সফরের সময় সেই দেশের একাধিক বড় ব্যবসায়ী তথা বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতবর্ষে বিনিয়োগ টানার জন্য মেক ইন ইন্ডিয়া- মতো প্রজেক্টেরও ব্যাখ্যা করেছেন একাধিক বার আর এর ফলেই বিদেশি বিনিয়োগের বন্যা বয়ে যাচ্ছে ভারতবর্ষে স্বভাবতই দেশে মতে শুরু করেছে রাজকোষের ঘাটতি যার ফলে বছরে শীর্ষে পৌঁছেছে টাকার দাম  মঙ্গলবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় মার্কিন ডলারের(USD) তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার (INR) দর ছিল ৬৪.০৭ টাকা বুধবার বাজার খুলতে তা আরও মজবুত হয়ে হয় ৬৩.৭৬ টাকা বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের সময় মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম দাঁড়ায়ে ৬৩.৭১ টাকা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন আগামি দিনে টাকার দাম আরও বাড়তে চলেছে




  ডিএনএ-তে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দুর্দান্ত আর্থিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্ত হওয়ায় ক্রমশ মজবুত হচ্ছে টাকা বর্তমানে বিশ্বে সমস্ত মুদ্রার মধ্যে সব থেকে দ্রুত হারে বাড়ছে টাকার দর প্রতি বছর প্রায় শতাংশ হারে বাড়ছে ভারতীয় মুদ্রা

  উল্লেখ্য ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরের মোট খরচের পরিমাণ ছিল প্রায়ে .৭২ কোটি মার্কিন ডলার এবং ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের হিসাব অনুযায়ী এই তিন বছরে ভারতে আগত মোট বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ১১,৪৪১ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ তিন বছরের বিদেশ সফরের মোট খরচের প্রায়ে ,৩০০ গুন বেশি বিদেশী বিনিয়োগ ভারতে নিয়ে এসেছেন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আশা করছি এবার বুঝতে পারছেন ঠিক কি ভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ভারতীয় মুদ্রার দর বাড়াতে সাহাজ্য করেছে

ভারতীয় রেলের টিকিটেও এবার মিলবে,"ক্যাশ-অন-ডেলিভারি"






দিল্লিঃ-দিনের মধ্যেই চলে আসবে Q3 আর তার কয়েকদিনের মধ্যেই আসতে চলেছে Q4, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাস, ভ্রমণের আদর্শ সময় । যদিও বাঙ্গালীর জন্য সুখবর, কারণ বাঙ্গালীর প্রধাণ পূজা অর্থাৎ দুর্গাপূজা এবার সেপ্টেম্বরের শেষে । মানে বাঙালির ভ্রমন শুরু হবে Q3-র আগেই সেপ্টেম্বর মাস থেকে । হাতে সময় কম, অনেকেরই ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানিং হয়ে গেছে এমনকি হোটেল বুকিং পর্যন্ত হয়ে গেছে, কিন্তু ট্রেনের টিকিট কনফার্ম হয়ে নি । এমতাবস্থাতে তৎকাল টিকিটই একমাত্র ভরসা ।



  কিন্তু তৎকাল টিকিট কাটার আগে অবশ্যই জেনে নিন একটি নতুন চমকের ব্যাপারে । যাত্রীদের সুবিধার জন্য এবার ভারতীয় রেল নিয়ে এসেছে একটি বিশেষ পরিষেবা। এবার থেকে যাত্রীরা আগাম নগদ না দিয়েই IRCTC-র ওয়েবসাইট থেকে তৎকাল টিকিট কিনতে পারবেন। শুধু তাই নয় একেবারে বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে সেই টিকিট। তখনই নগদ বা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা মেটাতে পারবেন গ্রাহকরা। অর্থাৎ রেল টিকিটেও এবার পাওয়া যাবে ক্যাশ-অন-ডেলিভারির সুবিধা । 

                                                        হামসফর এক্সপ্রেস

  মোদি সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়ার অংশীদার ভারতীয় রেল এই সুবিধা শুরু করেছে । বর্তমান রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু ভারতীয় রেলের বিভিন্ন পরিষেবা আধুনিকী-করণের মধ্যে এই ক্যাশ-অন-ডেলিভারির সুবিধা-টি অন্যতম ।

কি ভাবে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে জেনে নিন :-


  • irctc.payondelivery.co.in - তে সব থেকে আগে প্রয়োজনীয় নথির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
  •  এরপর পোর্টালটিতে pay-on-deliveryঅপশন সিলেক্ট করে গন্তব্য, দিন, সময়, ট্রেন ইত্যাদি তথ্য দিয়ে ফর্মটি ফিল-আপ করতে হবে ।
  •  তৎকাল টিকিট কনফার্ম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে SMS এবং রেজিস্টার্ড মেইল আইডি-তে email পৌঁছে যাবে এবং আপনার বাড়িতে টিকিট-টি পৌঁছে দেবে IRCTC
  • এরপর হাতে টিকিট পেয়ে গেলে তারপরেই টাকা দিতে হবে । নগদ সঙ্গে না থাকলেও কোন সমস্যাই নেই । লেসক্যাশ ইন্ডিয়া করতে চাওয়া মোদি সরকারের রেল দপ্তর তাই ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনস্পট পেমেন্ট এর সুবিধাও রেখেছে । বিষয়টা পুরোটাই হবে একদম ই-কমার্স সাইট থেকে জামা, জুতো, মোবাইল ইত্যাদি কেনার(অনলাইন মার্কেটিং-এর) মতই।

   যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই পরিষেবা শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলের এক শীর্ষ আধিকারিক। অনেক সময় ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন টিকিট কাটতে গিয়ে প্রযুক্তিগত সমস্যার সন্মুখীন হতে হয় যাত্রীদের । যেমন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা বেরিয়ে গেলেও টিকিট বুকিং করা যেত না। যদিও সেই টাকা ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত চলে আসত কিন্তু সমস্যায় পড়তেন যাত্রীরা। এবার সেই সমস্যার সুরাহা হল বলে মনে করা হচ্ছে।



                                  তেজাস সেমি-বুলেট ট্রেন
 
                                              তেজাস সেমি-বুলেট ট্রেনের অন্দর











তথ্যঃ- প্রতিদিন

Wednesday, 2 August 2017

বিজ্ঞান প্রমাণ করলো আর্যরা বিদেশী নয় ভারতীয়, হিন্দুত্ববাদিরাই সঠিক





হায়েদ্রাবাদঃ- একাধিক দেশের বিজ্ঞানিদের সমন্বয় তৈরি একটি গবেষকদের দল গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করছে শক, হুন,আরব, তুর্কি, মুঘল, ইউরোপীয় দের মত আর্যরা বিদেশ থেকে আগত কোন জাতি নয়ে, তারা ভারতীয় এবং ঐ শক, হুন,আরব, তুর্কি, মুঘল, ইউরোপীয় দের মত কোন দিনই বিদেশ থেকে ভারত আক্রমণ করতে আসেনি । 
  আর্য আক্রমণের ব্যাপকভাবে বিশ্বাসী তত্ত্ব(তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই), ভারতীয় উপমহাদেশে মহাজনপদ গুলোর সৃষ্টি ব্যাখ্যা করার জন্য প্রায়ই ব্যবহৃত হয়, এটি একটি ধারণা মাত্র কোন সত্য ঘটনা বা ইতিহাস নয়, ভারতীয় জেনেটিক রিসার্চারদের একটি নতুন গবেষণার ফলে এই তথ্যই উঠে এলো। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাপ্ত জেনেটিক বৈচিত্রের উৎপত্তি ৩,৫০০ বছরের(যখন ইন্ডো-আর্যদের ভারতে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা) অনেক আগেই তৈরি , সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (CCMB), হায়দ্রাবাদের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে একটি নতুন গবেষণার ফল এটাই বলছে। ২০১২ সালে, প্রধানমন্ত্রী মন মোহন সিং-র সময় এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর আমেরিকার জার্নাল অব হিউম্যান জেনেটিক্সে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। সঙ্গে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত নেচার ম্যাগাজিনও এই গবেষণা কে স্বীকৃতি দিয়ে নিজেদের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত করেছে । 

  আর্য আক্রমণের ধারণাটি জার্মান ভাষাবিদ ও সংস্কৃত বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স মুলার উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রদান করেছিলেন । তিনি বলেছিলেন, "৩,৫০০ বছর আগে, মধ্য এশিয়ার ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাভাষী মানুষদের একটি নাটকীয় স্থানান্তর, সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়া জনসংখ্যার আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল অর্থাৎ সেই সময় মধ্য এশিয়ার ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাভাষী মানুষদের একটি শাখা ভারতে চলে আসে এবং এটি ভারত-ইউরোপীয় ভাষা পরিবার এবং ভারতে বর্ণ প্রথা বা জাতিভেদ প্রথার প্রবর্তনের জন্য দায়ী ।" 
 
  গবেষণা দলের নেতৃত্বে থাকা CCMB-র গবেষক ডঃ কুমারস্বামী থাঙ্গারজ বলেছেন, "আমাদের গবেষণায় ধরা পড়েছে ৩,৫০০ বছর আগে কোন জেনেটিক প্রবাহ ঘটেইনি" । এই গবেষকদের দলে ছিলেন এস্তোনিয়ার তারতু বিশ্ববিদ্যালয়, চ্যাটিনাড একাডেমী অব রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন, চেন্নাই এবং বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষক । CCMB-র প্রাক্তন পরিচালক,বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং এই গবেষণার একজন সহকারী ডঃ লালজী সিং বলেছেন,"এটাই সঠিক সময় বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ভারতের প্রাগৈতিহাসিক পুনর্নির্মাণের"। "ভারতকে যে আর্যরা আক্রমণ করেছিল অথবা বিদেশ থেকে ভারতে যে আর্যরা এসেছিল সেটার কোন জেনেটিক প্রমাণ নেই অর্থাৎ আর্য নামক কোন বিদেশী জাতির পৃথক ভাবে কোন অস্তিত্বই নেই"। 

  গবেষকগণ ছয় লক্ষ বিট জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন SNP তৈরি করে, যা সংগ্রহীত হয়েছিল ভারতের ৩০ টি জাতিগোষ্ঠী সহ ১১২ টি জনগোষ্ঠীর ডিএনএ থেকে । অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জেনেটিক তথ্য দিয়ে এই তথ্য তুলনা তারা দেখিয়েছেন যে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি প্রধান বংশানুক্রমিক উপাদান রয়েছে । এক যাদের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়ে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়া, মিডিল ইস্ট, পূর্ব ও ককেশাস অঞ্চলের জনগোষ্ঠী গুলোর সঙ্গে । দ্বিতীয় অংশটি প্রধানত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং ভারতীয় জনসংখ্যার 50 শতাংশেরও বেশী এই জনগোষ্ঠীর বংশধর। গবেষকেরা আরও বলেছেন "দক্ষিণ এশিয়ায় জেনেটিক পার্থক্যকে প্রভাবিত করে এমন উভয় পূর্বপুরুষদের উপাদানই পশ্চিম ইউরেসিয়ার তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় এবং প্রাচীন । এই উপাদানের প্রাচীনত্ব আরও একটি ভিন্ন এবং প্রাচীন ডেমোগ্রাফিক ইতিহাসের লক্ষণ যা প্রায়ে ৭০,০০০ বছরের পুরানো এবং দক্ষিণ এশীয় জিনোমের বৈচিত্র পশ্চিম ইউরেসিয়ার জিনোমের বৈচিত্রের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর । অর্থাৎ ৩৫০০ বছর আগে পৃথক জিন বিশিষ্ট কোন বিদেশী মানব জাতির আগমন ভারতে ঘটেনি । এক্ষেত্রে উল্লেখ্য আর্য জাতিকে বর্তমান ইউরোপিও ফর্সা এবং অনার্য জাতিকে কালো আফ্রিকানদের সমগোত্রীয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানব জাতি বলে ধারণা করা হয়ে থাকে । 

  এস্তোনিয়ার তারতু বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানেশ্বর চৌবে বলেছেন, "এদেশের বাইরে যে জিনগত উপাদানটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তা পৃথিবীর যে কোনও অংশের তুলনায় ভারতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর অর্থ, এই জেনেটিক উপাদানটি ভারতে উৎপন্ন হয়েছে এবং তারপর ধীরে ধীরে পশ্চিম এশিয়ায় এবং ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে "। এক কথায়ে আর্য জাতি মধ্য এশিয়া/বিদেশ থেকে ভারতে আসেইনি উপরন্তু ভারত থেকে মধ্য এশিয়া/বিদেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনাটাই প্রবল । মনে রাখার বিষয় হিন্দুত্ববাদিরাও বহু বছর ধরেই যে দাবি করে আসছে বা হিন্দুত্ববাদিদের দাবির সঙ্গে অদ্ভুত ভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলের অনেকটাই মিল ।   



   যদি মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় কোন মানব জাতির স্থানান্তর ঘটত তবে তার কোন না কোন প্রমাণ গবেষণায় ধরা পড়তো এবং এটি ভারতীয়দের জিনের উপাদানে ধরা পড়তো কিন্তু এই পূর্বপুরুষের উপাদান এই অঞ্চলের মানবগোষ্ঠীর শরীরে অনুপস্থিত কারণ, তাই আমাদের এই উপসংহারে আসা উচিত , আর্য আক্রমণের ব্যাপকভাবে বিশ্বাসী তত্ত্বটা(তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই) একটা ভ্রান্ত ধারণা ছাড়া আর কিছুই না । 

সূত্রঃ- India Today, The Hindu, DNA News, Nature Magazine, Journal of Human Genetics
loading...
loading...