Saturday, 5 August 2017

ডোকলাম সমস্যা, ১৩০ কোটি ডলারের চিনা বিনিয়োগ ফেরালো মোদি সরকার






কলকাতা ও দিল্লিঃ- ডোকলাম ইস্যু নিয়ে ভারতের করা অবস্থান এবং পূর্ববর্তী সরকার গুলোর মতন চিনের আগ্রাসী মনভাবের কাছে মাথা নত না করা ভারতকে দেখে অবাক হচ্ছে সারা বিশ্ব মাত্র কয়েক বছর আগেই যে চিন, ভারতের সীমান্তের ভিতর সেনা ঢুকিয়ে দৌলত বেগ ওল্ডিতে ঘাটি গাড়িয়ে ২১ দিন ধরে বসিয়ে রেখেছিল এবং তৎকালীন ভারতের কংগ্রেস সরকার আবেদন নিবেদন ছাড়া আর কিছুই করেতে পারেনিএখন সেই চিনের সেনার চোখেচোখ রেখে দেড় মাসের উপরে একই ভারতীয় সেনা দেশের বাইরে বেরিয়ে ভুটানে গিয়ে চিনের বামপন্থী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন থেকে ভুটানকে রক্ষা করছে এই অবস্থায়ে চিন প্রত্যেক দিনই কিছু না কিছু হুমকি দিয়েই চলেছে, আর ভারত সরকার এবং তার দেশভক্ত সমর্থকরা প্রত্যহ ঘুর পথে কিছু না কিছু চৈনিক পণ্যকে বর্জন করাচ্ছেন। যার ফলে শেষ কয়েক সপ্তাহে কয়েকশো কোটি টাকার লোকসান হয়েছে চিনের এবার এই লিস্টে নতুন সংযোজন ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের চিনা বিনিয়োগ ফিরিয়ে দেওয়া

  চিনের 'সাংঘাই ফোসুন ফার্মাস্যুটিক্যাল গ্রুপ' ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল ভারতের মাল্টি-ন্যাশনাল ফার্মা কোম্পানি 'গ্ল্যান্ড ফার্মা লিমিটেড'-এ। গ্ল্যান্ড ফার্মা লিমিটেড পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটা কোম্পানির মধ্যে একটা, যাদের কাছে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের বাইরে ওষুধ তৈরি করে ঐ দেশে বিক্রির অনুমতি রয়েছে। উল্লেখ্য এই মার্কিন দেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ওষুধের বাজার, আর সেই বাজারের দিকে তাকিয়েই এই বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল চিনের এই ফার্মা কোম্পানিটি। সব কিছু প্রায়ে ঠিকই হয়ে গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে বাধ সাধল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে থাকা বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত পার্লামেন্টারি কমেটি।

  ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত পার্লামেন্টারি কমিটি রয়েছে যার প্রধান দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেই। গত সপ্তাহেই এই বিনিয়োগকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে ঐ কমিটি। চিনের সরকারি পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস এক রকম হুমকির সুরেই জানিয়েছে,"এই বিনিয়োগ ফেরানোর ফল ভুগতে হতে পারে ভারতকে, কারণ এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে চিনা সংস্থাগুলো ভারতে বিনিয়োগ করার আগে অন্তত্য ১০ বার চিন্তা করবে"।

  ফার্মা এমন একটা সেক্টর যা কোন ভাবেই দেশের নিরাপত্তাকে কোন ভাবেই বিঘ্নিত করে না, তবুও এমন একটা সেক্টর থেকে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ ফিরিয়ে দিয়ে মোদি সরকার সরাসরি চিনকে বার্তা দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। ভারতে বিভিন্ন বামপন্থী নেটিজেন-রা চিনা পণ্য নিষিদ্ধের কথা উঠলেই পোষ্ট গুলো কে কাউন্টার করে বারংবার প্রশ্ন তোলে চিনা পণ্য ব্যান বা চিনা বিনিয়োগ ফেরাচ্ছে না কেন মোদি সরকার?! এই ঘটনার পর অনেক মোদিপন্থী নেটিজেনরাই মনে করছেন চিনা পণ্য নিষিদ্ধের পোষ্ট গুলো কে কাউন্টার করে ঘুর পথে চিনা পণ্য গুলোকে সমর্থন করা ঐ নেটিজেনরাও বিশেষ বার্তা পাবে। 

  তবে কে কী বার্তা পাবে সেটার থেকেও বড় বিষয় হল মোদি সরকার ২০১৪ সালে যে নেশন ফার্স্ট নীতি গ্রহন করেছিল, তিন বছর পরেও সেই নীতি থেকে এক চুলও নড়েনি সেটা পরিস্কার বোঝা গেল। ভারতে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করে সেই টাকা দিয়ে হাতিয়ার কিনে সেই হাতিয়ার দেখিয়েই ভারতকে ভয় দেখানোর দিন মনে হয়ে এই ভাবেই শেষ হতে চলেছে। ডোকলাম সমস্যার মধ্যেও ভারত সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্ত কিন্তু পরিস্কার ভাবে ইঙ্গিত করছে আন্তর্জাতিক স্তরে মাথা উঁচু করে চলা এক নতুন ভারতের দিকে।

চীনের ডোকলাম আগ্রাসনে লাভবান ভারতের কুটির শিল্প, বাজারে নেই চীনা রাখী





কলকাতা ও দিল্লীঃ- মাসুদ আজাহার থেকে ডোকলাম আগ্রাসন, ভারত-চিন সম্পর্কের মধ্যে টালমাটাল অবস্থার ফলে শেষ কয়েক মাস ধরে দেশের ভিতরে চিনা পণ্য বর্জনের জন্য জাতিয়তাবাদি-দের ব্যাপক প্রচার চোখে পরেছে। পালটা যদিও বামপন্থীরা ঘুর পথে প্রচার করে সব রকমের প্রচেষ্টাই চালিয়েছিল চিনা পণ্য বর্জনের প্রচারকে ব্যর্থ করতে। তবে তারা সফল হতে পারেনি। এর ফলে লাভবান হয়েছিল আমাদের দেশের গরীব কুটির শিল্পীরা।

  গত বছর দিপাবলির আগে চিনা দ্রব্য বর্জনের ব্যাপক প্রচারের ফলে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যবসা হারিয়েছিল চিন। আর আমাদের দেশের কুটির শিল্পে তৈরি হওয়া প্রডাক্টের বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়াতে ঐ হাজার কোটি টাকার প্রায়ে পুরোটাই বাড়তি লাভ করেছিল এই দেশের গরীব কুটির শিল্পীরা। এবার রাখী-বন্ধন উৎসবে চিনা দ্রব্য বর্জনের পালা।

  রাখীবন্ধনে ভাইদের রক্ষাসূত্র বাঁধতে শত্রু দেশের পণ্য ত্যাগ করল ভারতীয় বোনেরা। দেশ ও সেনা ভাইদের ত্যাগের কথা মাথায়ে রেখেই বোনেরা ত্যাগ করছে চিনা রাখী। তবে শুধু মাত্র বোনেদের কথা বললেই হবে না, চিন থেকে রাখীর আমদানিটাও কমিয়েছে দেশিও ব্যবসায়ীরা। যার ফলে কয়েক’শো কোটি টাকার লোকসানও দেখতে হচ্ছে চিন-কে।


  সমীক্ষা বলছে মূলত দিল্লী সহ গোটা উত্তর ভারতের ব্যবসায়ীরা সস্তা হওয়া সত্যেও চিনা রাখী আমদানি করতে অস্বীকার করছে। উপরন্তু দামে সামান্য বেশি হওয়া দেশের কুটির শিল্পে তৈরি রাখী গুলোই তারা বেচতে চাইছে। সচেতন ভারতীয় ক্রেতাদের বক্তব্য, 'উত্‍‌সবের সময় শুধু রাখি বেচেই চিনারা কোটি কোটি টাকা ভারত থেকে নিয়ে যাচ্ছে। ঘুর পথে সেই টাকাই ভারত বিরোধিতায় খরচ করছে। ওদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।'

  বড় কারবারিরা জানাচ্ছেন, ডোকালাম নিয়ে চিনের ক্রমাগত হুমকির ফলেই সচেতন ভাবেই লোকজন চিনা পণ্য বয়কট করছেন। যার ফলে রক্ষাবন্ধনের আগে ভারতীয় বাজারে এবার চিনা রাখির চাহিদাই নেই ।দাম কম, দেখতে ভালো, চিনা রাখি মনমোহনের বাম সমর্থিত UPA-1 সরকারের সময় থেকে সহজেই ভারতীয় বাজার ধরে ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টাতে ক্রেতাদের সজাগ করে তোলার পর থেকেই কম দাম হওয়া সত্ত্বেও ভারতে বিকোচ্ছে না চিনা রাখী।

  গত বছর পর্যন্তও এই চিনা রাখীর চাহিদা ছিল তুঙ্গে, এবার তার সিকিভাগও নেই। বিক্রেতারাদের বক্তব্য, এর সবথেকে বড় কারণ ডোকালামে বাম দেশটির সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন। এই আগ্রাসনের যোগ্য জবাব অবশ্য ভারত সরকার দিচ্ছে, চীনের কোন হুমকির কাছে মাথা নত না করে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সেনাকে না সরিয়ে তারা বুঝিয়ে দিচ্ছে, মোদী সরকারের বিদেশনীতি পূর্বসূরিদের মতো দুর্বল নয়ে। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও এই সরকার কোন রকমের সমঝোতা করতে কোন মুল্যেই রাজি নয়ে। পার্লামেন্টে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঘোষনা করেছেন,"বাম দেশ চিন যতক্ষন না সেনা প্রত্যাহার করছে এবং ডোকলামের জমি দখলের উদ্যোগ থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ ভারত সেনা প্রত্যাহার করবে না"। মোদী সরকার আইনের রদ বদল করে একের পর এক সেক্টরে (ডেয়ারি,বিদ্যুৎ,মোবাইল,ইলেক্ট্রনিক্স,ফার্মা ইত্যাদি) চিনা কোম্পানি এবং চিনে তৈরি দ্রব্য গুলোকে ব্যান অথবা দ্রব্য গুলোর আমদানি কম করছে। আর সরকারের এই মানসিকতাকেই দেশবাসী সার্বিক ভাবে সমর্থন করে একের পর এক চিনা দ্রব্য বর্জন করে অর্থনৈতিক ভাবে চিনকে আরও চাপে ফেলছে, যার ফলে দিন দিন আরও বেশি লাভবান হচ্ছে আমাদের দেশের গরীব কুটির শিল্পীরা।

উল্লেখ্যঃ- চীনে রাখি-বন্ধন উৎসব হয়ে না, কিন্তু ভারতে এই উৎসবের জন্য কয়েক’শো কোটির ব্যবসা হয়ে থাকে। আর সেই বাজারের দিকে তাকিয়েই শুধু মাত্র ভারতের বাজারের জন্যই চিন বিশেষ ধরণের ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড বা রিস্ট ব্যান্ড তৈরি করে যা আমাদের দেশে রাখী হিসাবে বিক্রি হয়ে।


                                                     চিনে তৈরি রাখী

Friday, 4 August 2017

নিজেদের মধ্যে বউ বদল করলো দুই বাংলাদেশী যুবক



কলকাতা ও ঢাকাঃ- পরকীয়া সম্পর্কের কারণে একে অপরের বউ বদলের এক অভিনব ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে নীল ছবি বা পর্ণ-ফিল্মের মিল পাওয়া গেলেও বাস্তবেই এই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে ।

  সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গেছে, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে সেলিম বিদেশে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী সোমা খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের পরাণ শেখের ছেলে সোহেলের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সোহেল তার প্রেমিকা সোমাকে এলাকার একটি তাঁত কারখানায় কাজ জোগাড় করে দেয়। গভীর প্রেমের টানে সোমা তার দুই বছরের ছেলে সন্তানকে তার ঠাকুরমার কাছে রেখে সোহেলের হাত ধরে পালিয়ে যায়। সোহেলের ঘরেও স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে। এদিকে, সোহেলের স্ত্রী তার স্বামীর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিদেশে অবস্থানরত সোমার স্বামী সেলিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

  গত জুলাই মাসে পরিবারের সম্মতিক্রমে মোবাইলের মাধ্যমে সোহেলের স্ত্রীর সঙ্গে সেলিমের বিয়ে হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

  স্থানীয়রা আরও জানায়, সেলিমের স্ত্রী সোহেলের সঙ্গে পাঁচ মাস হলো চলে গেছে। আর সোহেলের স্ত্রীর সঙ্গে সেলিমের বিয়ে হয়েছে সম্প্রতি। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেই তাদের বিয়ে হয়েছে।

  সেলিম ও সোহেলের পরিবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।












তথ্যঃ বিডি২৪লাইভ

চিন্তায়ে চিন, ভারতে তৈরি অ্যাটাক হেলিকপ্টার "রুদ্র"-র স্কোয়াড্রন সীমান্তে






কলকাতাঃ- ভারত ও চীনের মধ্যের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং দেড় মাসের বেশি সেনা অবস্থানের সাথে সাথে সিকিম সীমান্ত এলাকার উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী এই বছরের চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই দেশে তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্বলিত উন্নত মানের হালকা হেলিকপ্টার এএলএইচ রুদ্র মোতায়েন করতে চলেছে।

  দেড় মাসের বেশি সময় ধরে দুই দেশের সেনার মুখোমুখি অবস্থানের এই অবস্থাকে ইতিমধ্যেই ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে সব চেয়ে বড় রকমের বৈরি আচরণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই টান টান উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে,আসামের উত্তর-পূর্ব অংশে ১০ টি এএলএইচ রুদ্র এবং রাশিয়া থেকে কেনা এম.কে-৪ এর ১ টি হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হবে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কার্যকরী হতে যাওয়া অতিরিক্ত হেলিকপ্টার ঘাঁটি নির্মাণের সাথে সাথে এই হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন মোতায়েন হবে।



  চীনের সরকারি পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে এই নতুন  হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন মোতায়েনের ফলে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে। যদিও গতমাসে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চিন সেনার সেনা মহড়ার পরে ভারত সরকারের এই রকম সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে চিন সরকার এক রকম বিচলিতই, কারণ বাম-সাম্রাজ্যবাদী চীনের প্রতি এমন অনমনীয় মনোভাব মোদী সরকারের আগে কোন সরকারের থেকেই দেখা যায়েনি।

  হিন্দুস্তান এরিনটিক্স লিমিটেডের তৈরি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই মাল্টি-রোল হেলিকপ্টারটির অধিকাংশ যন্ত্রই ভারতে তৈরি। আসলে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হ্যাল এলসিএইচ ধ্রুব হেলিকপ্টারেরই আরমার্ড ভ্যারিয়েন্ট হল এই হ্যাল এএলএইচ রুদ্রএই একই ধরণের ইঞ্জিন থাকবে ভারতের তৈরি এলসিএইচ অ্যাটাক হেলিকপ্টারে।

  ২০০৫-০৬ নাগাদ হ্যাল ধ্রুব হেলিকপ্টারকে খুব বেশি মডিফিকেশন না করেই একটা আরমার্ড ভ্যারিয়েন্ট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা মাফিক ২০০৭ এর মধ্যেই হ্যাল এএলএইচ রুদ্রর একটা প্রোটোটাইপ তৈরি করে সফলতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়ে। ২০১১ নাগাদ এর অস্ত্র সমেত শেষ পরীক্ষাতেও সফলতা পাওয়া গেলে ২০১২-র সেপ্টেম্বর নাগাদ সফলতার সঙ্গে সেনার উপযোগী প্রথম হেলিকপ্টারটি তৈরি হয়ে যায়ে। ২০১২-র শেষে সেনার তরফ থেকে ইনিসিয়াল অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স(IOC) পেয়ে যাওয়ার পরে ২০১৩ থেকে ফুল ফ্লেজড প্রোডাকশন শুরু হয়ে।


  এই হেলিকপ্টারটির ন্যাভাল ভ্যারিয়েন্টও একবারেই নৌসেনার প্রয়োজন মেটানোর মতো তৈরি করা গিয়েছিল, যার ফলে সেনা, বায়ুসেনা ছাড়াও নৌসেনাও এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করার জন্য হ্যালের কাছে অর্ডার দিয়েছে। আপাতত সেনার তিনটে ডিভিশন মিলিয়ে ১০০ টির বেশি হেলিকপ্টারের অর্ডার দেওয়া হয়েছে হ্যালের কাছে। মনে রাখার বিষয় হল এর মাদার ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এলসিএইচ ধ্রুব হেলিকপ্টার কে ইজরায়েল সহ ৫ টার বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।

ন্যাভাল ভ্যারিয়েন্ট


  এই হেলিকপ্টারটি দিনে বা রাত্রে যে কোন রকমের আবহাওয়াতে, যে কোন ধরণের সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী উচ্চতায় অপারেশন চালাতে অত্যন্ত কার্যকরী ৫০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায়ে অবস্থিত সিয়াচেনের উপর দিয়েও কোন রকমের সমস্যা ছাড়াই এই হেলিকপ্টারটি উড়তে সক্ষম। পাহাড়ি লড়াইতে এশিয়া মহাদেশে এই হেলিকপ্টারের জুড়ি মেলা ভার। জানলে অবাক হবেন কোন রকমের পরিবর্তন ছাড়াই হেলিকপ্টারটি অস্ত্র এবং মানুষ একসঙ্গে বহন করতে পারে ।

  • সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক দেশি হেলিকপ্টারটির কিছু বৈশিষ্ট্যঃ-  

  • ·         অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়েও ১২ জন মানুষ বহন করতে পারে।
  • ·         ৫,৫০০ কিলো ওজন সমেত উড়তে পারে যা লাইট হেলিকপ্টারদের মধ্যে সব থেকে বেশি।
  • ·         সর্বোচ্চ ২৯০ কিমি/ঘন্টা বেগে উড়তে সক্ষম।
  • ·         ট্যাঙ্ক ভর্তি জ্বালানি নিয়ে একটানা ৩২০ কিমি উড়তে পারে।
  • ·         ৬,০৯৬ মিটার বা ২০,০০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে।

  • হাতিয়ারঃ-

  • ·         একটি ২০মিমি এম৬২১ কামান।
  • ·         দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৮ টা নাগ অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইল।
  • ·         চারটে এমবিডিএ মিস্ট্রাল(ফ্রান্সে তৈরি) এয়ার টু এয়ার মিসাইল।
  • ·         একটি ৭০ মিমি রকেট লঞ্চার(পড)।
  • ·         দুটো টরপিডো অথবা ডেফট্ চার্জ(নেভাল ভ্যারিয়েন্ট)।
  • ·         দুটো অ্যান্টি-শিপ মিসাইল(নেভাল ভ্যারিয়েন্ট)।
  • ·         দুটি ব্রহ্মোস মিসাইল।
  • ·          সুইডেনে তৈরি সাব(SAAB) আইডিএএস-৩ সেল্ফ প্রোটেকশন কিট্।
loading...
loading...