Monday, 4 September 2017

এবার সেনাকে সীমান্তের লাইভ ফুটেজ দেবে দেশি রিয়েল টাইম স্যাটেলাইট


ওয়েবডেস্কঃ- সীমান্ত সমস্যা এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান এবং চিনের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ভারতকে বে-কায়েদাতে ফেলার সব ধরনের চেষ্টা হাতে হাত মিলিয়ে করেই চলেছে এই বাম এবং ইসলামিক রাষ্ট্রজোটতাই আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ভারতের, বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা শত্রুদেশের সেনাবাহিনী এবং তাদের সাহাজ্যপ্রাপ্ত জঙ্গিদের গতিবিধির উপর নজরদারি করতে এবার রিয়েল টাইম স্যাটেলাইটের সাহায্য নিতে চলেছে ভারত।

  বর্ডার রক্ষার কাজে নিয়োজিত বিএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবির জওয়ানদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই এই স্যাটেলাইটের সাহায্য নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রিয়েল টাইমে পাকিস্তান ও চিনের সেনাবাহিনীর উপর নজর রাখা যাবে। অর্থাৎ সীমান্তে পাকিস্তান ও চিনের সেনাবাহিনীর যে কোন মুভমেন্টের লাইভ ভিডিও দেখতে পাবে সেনারা। জঙ্গি অনুপ্রবেশের বিষয়টিও ধরা পড়বে। যে কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে এবং সীমান্ত এলাকার মানচিত্র বুঝতে সুবিধা হবে। জঙ্গি অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে বিদেশি শক্তির সীমান্ত বরাবর আনাগোনা বা জমায়েত, সবই লাইভ ধরা পড়বে এই স্যাটেলাইটে।

  ডিএনএ-র খবর অনুযায়ী,  বিএসএফ, আইটিবিপি, এসএসবি-র অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ইসরোর কার্যকর্তাদের। সীমান্তে নজর রাখার জন্য কতগুলি স্যাটেলাইটের দরকার সে বিষয়েটিও আলোচনাতে উঠে এসেছে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে চলা কেন্দ্রীয় সরকার এবিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলেই সূত্রের খবর। কারণ সোনিয়া-মনমোহন পরিচালিত সরকার থাকা কালীন একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সেনার তরফ থেকে সরকারের কাছে জানানো হলেও কোন কিছুই হয়েনি।

  এই মুহূর্তে ভারতের মোট ১৩টি স্যাটেলাইট শত্রুপক্ষের উপর নজর রাখে। তবে এগুলোর প্রত্যেকটিই রিমোর্ট সেন্সিং এবং কোনটিতেই রিয়েল টাইম ফুটেজ পাওয়া যায়ে না। তবুও এইসব স্যাটেলাইট গুলোর মাধ্যমে সীমান্তে মানচিত্র দেখা যায়, সীমান্তের ওপারে নজরদারি চালানো যায়, সমুদ্রেও থাকে কড়া নজর রাখা যায়ে। পৃথিবীর কক্ষপথের কাছে ঘোরাফেরা করে এইসব রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট।

  রিমোর্ট সেন্সিং স্যাটেলাইটের থেকে কেন রিয়েল টাইম স্যাটেলাইট ভাল? কারণ রিয়েল টাইম স্যাটেলাইট দিয়ে কোন অঞ্চলের পরিস্থিতির লাইভ ফুটেজ পাওয়া সম্ভব। অনেকটা, যে ভাবে ঘরে বসেই লাইভ খেলা দেখা যায়ে, ঠিক সেই ভাবেই মাইক্রো-সেকেন্ডের পার্থক্যে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সীমান্তের এবং তাঁর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের লাইভ ফুটেজ পেয়ে যাবে সেনা। এখন এই লাইভ ফুটেজ বা খবরাখবর নেওয়ার জন্য একাধিক গুপ্তচর ড্রোন এবং আওয়াক্স ব্যবহার করা হয়ে। তবে আওয়াক্স ও ড্রোনের সব থেকে বড় অসুবিধা হল এর মাধ্যমে ৩৬৫ দিন ধরে ২৪x তথ্য পাওয়া যায়ে না। কারণ এদের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলেই ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হয়ে। সব রকমের জলবায়ুতে ড্রোন ও আওয়াক্সকে ব্যবহার করাও সম্ভব নয়ে। তবে স্যাটেলাইটে এই সমস্যা গুলো নেই। তাই ভারত অদূর ভবিস্যতেই সীমান্ত নজরদারিতে রিয়েল টাইম স্যাটেলাইট ব্যবহার করা শুরু করতে চলেছে ভারত।

বাড়তি টাকা নিয়েও ভগিনী নিবেদিতার জন্ম সার্ধশতবর্ষের অনুষ্ঠান বাতিল মহাজাতি সদনের


 ওয়েবডেস্কঃ- ২০১৭ সাল। বছরটা হল ভগিনী নিবেদিতার জন্ম সার্ধশতবর্ষের বছর। আর এই উপলক্ষেই ৩-রা অক্টোবর মহাজাতি সদনে আয়জিত হওয়ার কথা ছিল এক অনুষ্ঠান। আয়োজক ছিল "সিস্টার নিবেদিতা মিশন ট্রাষ্ট"। কিন্তু বাধ সাধল নোংরা রাজনীতি। অন্তত এমনটাই দাবি করেছে ঐ সংঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী রন্তিদেব সেনগুপ্ত।

  ঐ দিন অর্থাৎ ৩-রা অক্টোবর ২০৪৭ হল বুকিং-র জন্য বাড়তি টাকার দাবি করে হল কর্তৃপক্ষ। বাড়তি নিয়ে বুক করলেও পরে ভগিনী নিবেদিতার জন্ম সার্ধশতবর্ষ অনুষ্ঠান বাতিল করল মহাজাতি সদন। যানা গেছে পূজার ছুটির মধ্যেই অনুষ্ঠান হবে বলে বুকিং-র জন্য বাড়তি টাকা চেয়েছিল মহাজাতি সদন হল কর্তৃপক্ষ। সেই বাড়তি টাকা দিতে রাজি হয়ে বুকিং-ও করেছিল আয়োজকেরা। তবুও শেষ রক্ষা হল না। বুকিং বাতিল করল হল কর্তৃপক্ষ। ভগিনী নিবেদিতার সার্ধশতবার্ষিকীর উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে উদ্যোগী হয়েছিল সিস্টার নিবেদিতা মিশন ট্রাষ্ট। এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হয়ে আসার কথাও ছিল আরএসএস প্রধান শ্রী মোহন ভাগবতের। কিন্তু হটাৎ করে হল কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করায়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল পুরো বিষয়টাই।

  সাধারণত ঐ মহাজাতি সদনের ভাড়া ১৪,৩৫০ টাকা। কিন্তু যেহেতু অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল পূজার ছুটির মধ্যে, তাই হল কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু বাড়তি টাকা দাবিও করে বসে। বাড়তি টাকা দিতে
রাজি হয়ে যায়ে আয়জকেরাও। তারপরেই কর্তৃপক্ষের আরোপিত শর্ত মেনেই হলের বুকিং করা হয়। এরপরেও হটাৎ করেই বুকিংকে বাতিল করে দেওয়া হয়। ঐ সংঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী রন্তিদেব সেনগুপ্ত এই ঘটনার কারণ হিসাবে নোংরা রাজনীতিকেই দেখছেন। দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকাকে তিনি জানিয়েছেন, "৩ অক্টোবর ভগিনী নিবেদিতার সার্ধশতবর্ষ অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য হল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী বাড়তি টাকা দিয়েই বুকিং করানো হয়ে। অনুস্থানের প্রধান অতিথি হয়ে আসার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্যপাল শ্রী কেশরী নাথ ত্রিপাঠি-র। তা সত্বেও গত শুক্রবার জানিয়ে দেওয়া হয় বুকিং বাতিল করা হয়েছে"। রন্তিদেব বাবুরা একরকম নিশ্চিত, প্রধান বক্তা হিসাবে মোহন ভাগবতের নাম থাকার জন্যই বুকিংকে বাতিল করা হয়েছে।

  উল্লেখ্য এর আগেও ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আরএসএস এবং মোহন ভাগবতের সভার অনুমতি দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করেছিল রাজ্য প্রশাসন। এরপর আয়োজকরা কোর্টের দ্বারস্থ হলে, কোর্টের নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন অনুমতি দিতে বাধ্য হয়ে।

প্রয়াত তৃণমূলের সাংসদ ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য সুলতান আহমেদ



 ওয়েবডেস্কঃ- প্রয়াত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা ভারতের মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের অন্যতম সদস্য সুলতান আহমেদ। তিনি ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য এবং উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রর পঞ্চদশতম নির্বাচিত সাংসদ। আজ সকালে বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইট থেকে বিষয়টি সকলের সামনে আসে।

  সুলতান আহমেদ ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিনিধি। তৃনমূলে যোগ দেওয়ার আগে, তিনি কংগ্রেসের টিকিটে দু'বার(১৯৮৭-৯১ ও ১৯৯৬-২০০১) এন্টালি থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন।   ১৯৬৯ সালে মৌলানা আজাদ কলেজে সুলতান আহমেদ কংগ্রেসের ছাত্রশাখা ছাত্রপরিষদে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালে তিনি যুব কংগ্রেসের সদস্য হন। ১৯৭৮-৮০ সময়কালে তিনি যুব কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয়। সুলতান আহমেদ ছিলেন এই নবগঠিত দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। তিনি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সচিবও ছিলেন। দ্বিতীয় মনমোহন সিং সরকারের মন্ত্রিসভার পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন।

 পেশায়ে ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ সারা জীবনে খুব বেশি বিতর্কের সম্মুখীন না হলেও শেষ বয়সে নারদা কান্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে গিয়েছিল। 


Sunday, 3 September 2017

ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য ভারতের প্রতিবেশী মুসলিম দেশের আরব সংস্কৃতি বর্জন



ওয়েবডেস্ক : বিভিন্ন বিতর্কের সময় দেখা গেছে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে অনেকেই প্রশ্ন করেন, একটা মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষ দেশের নাম বলার জন্য। প্রায়ে প্রতিবারই উত্তর দিতে অসমর্থ হয়ে সেই মুসলমান মানুষটি। কারণ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের দেশ খোঁজা, আর খড়ের গাঁদা থেকে ছুঁচ খোঁজা দুটোই প্রায়ে সমার্থক। পৃথিবীতে ৫০-র বেশি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ থাকলেও, ঐ সব দেশের মধ্যে অধিকাংশ দেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ নয়। ইরান সৌদির মত গোঁড়া মুসলিম দেশ-তো, বিধর্মীদের ধর্মচর্চার সাংবিধানিক অধিকার টুকুও দেয় না। তবে মুসলিম মানুষদের নিরাশ হওয়ার কিছুই নেই। সংখ্যাতে অতি সামান্য হলেও কিছু মুসলিম দেশ আজও রয়েছে যারা ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান তৈরি করেছে নিজের দেশের মানুষদের জন্য।

  এই রকমই একটা দেশ হল তাজিকিস্তান। ইস্টার্ন-টার্কিক বা প্রাচ্য তুর্কীদের একটি শাখা হল এই তাজিকরা। ভারতের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত এই দেশ। মহাভারতেও এই জনজাতীর উল্লেখ রয়েছে। মাত্র হাজার বছর আগে অবধিও এই অঞ্চলের মানুষদের ধর্ম-সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতীয় ধর্ম-সংস্কৃতির কোন পার্থক্যই ছিল না। হিন্দু, বৌদ্ধ, পারসি ধর্ম ছিল এই অঞ্চলের প্রধান ধর্ম। এমনকি ভারতীয়দের মতন নামও হত ওখানের বিভিন্ন অঞ্চলের। ১০০০ বছর ধরে মুসলিম ও পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে মধ্যএশিয়া থাকলেও ওদের অনেকেই আজও ভোলেনি প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির পরধর্মসহিষ্ণুতা-কে। মনেরাখা ভাল মধ্য এশিয়ার পূর্বপ্রান্ত অর্থাৎ তাজিকিস্তান, কাজাকিস্তান, কিরঘিজস্থান তথা চিনের পশ্চিমাঞ্চলের মুসলিম জনজাতি পৃথিবীর অন্য যে কোন অঞ্চলের মুসলিমদের থেকে কম কট্টরপন্থী এবং মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চল হওয়া সত্যেও খুব কম লোক আরবের সংস্কৃতি উগ্র ও বর্বর দিক গুলো মেনে চলে।


  যদিও শেষ কয়েক বছরে এই অঞ্চলের কিছু কিছু অংশে আরবীয় কট্টরবাদী ইসলামের বিস্তার চোখে পড়ছে। তাই এই কট্টরবাদকে শেষ করতেই উদ্যোগী হয়েছে তাজিকিস্তান প্রশাসন। ঐ দেশের সরকার পুরুষদের আরবি কায়েদাতে দাড়ি এবং নারীদের হিজাব নিষিদ্ধের পর তাজিকিস্তানে এবার আরবী নাম রাখা নিষিদ্ধ করছে। বৃটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন আরবি নাম নিষিদ্ধ করতে একটি আইন পাসের জন্য পার্লামেন্টকে আদেশে দিয়েছেন। রুশ সংবাদ সংস্থা ‘ইন্টারফ্যাক্স’কেও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাজিকিস্তান আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।

প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন
   শিশুদের জন্মনিবন্ধনের সময় যদি তাদের আরবী নাম দেখা যায়, তা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আদেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি প্রাপ্ত বয়স্কদেরও আবেদন করে জানানো হয়েছে আরবি নাম বদলে ফেলার জন্য(যদিও ঐ দেশের বেশির ভাগ প্রাপ্ত বয়স্কের আরবি নাম নেই)। প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়, আরবী নাম তথা সংস্কৃতি প্রতিহতের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেদেশের প্রশাসন। ২০১৭-র এপ্রিল থেকে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের হজে নিষিদ্ধ করে তাজিকিস্তান সরকার। দেশটির ৮৫ লাখ জনসংখ্যার অধিকাংশই মুসলিম। তবুও প্রেসিডেন্ট বারবারই ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য একের পর এক আইন পাস করে যাচ্ছেন। এর আগে পুরুষদের আরবি কায়েদাতে দাড়ি রাখা ও নারীদের হিজাব নিষিদ্ধ করেছে তাজিকিস্তান সরকার। তাজিকিস্তানের ৯৫% মানুষ মুসলিম হওয়া সত্যেও নাবালকদের মসজিদে ঢোকাও নিষিদ্ধ। তাজিকিস্তান সরকার মনে করে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কোন অঞ্চলকে ধর্মনিরপেক্ষ করে রাখার পথে সব থেকে বড় বাধা ইসলাম ধর্ম নয়ে, আরবদের বর্বর সংস্কৃতিকে অন্ধ ভাবে হুবাহু অনুসরণ করা। তাছাড়াও তাজিকদের নিজেদেরও অতি উন্নত এবং সুপ্রাচীন সংস্কৃতি রয়েছে।

Saturday, 2 September 2017

পবিত্র ঈদে কাশ্মীরে নিকেশ লস্কর জঙ্গি ইসফাক



 ওয়েবডেস্কঃ- নরেন্দ্র মোদির সরকার সন্ত্রাস মুক্ত কাশ্মীর তৈরির উদ্দেশ্যে সেনা বাহিনীকে পুরোপুরি ফ্রি-হ্যান্ড দিয়েছে। সন্ত্রাস ও ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতাবাদ মুক্ত কাশ্মীর তৈরির জন্য শুরু করা হয়েছে "অপারেশন অল আউট", ফলে পায়ে প্রত্যেক দিনই কোন না কোন জঙ্গির মৃত্যুর খবর আসছে। কয়েকদিন আগে অব্ধিও যেমন পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি গুলো ভারতের মাথা ব্যাথার কারণ ছিল, এখন অবস্থাটা ১৮০ ডিগ্রী বদলে গেছে। ভারতীয় সেনারা এখন এই ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মাথা ব্যাথার কারণ।

  আজ সকালে কাশ্মীরের কুলগাম জেলাতে সেনা ও পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মৃত্যু হল এক লস্কর জঙ্গির। এখন অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী যানা গেছে, মৃত জঙ্গিটি ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তইবার জঙ্গি ইসফাক পাড্ডার। দক্ষিণ কাশ্মীরে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টার জেনারেল জানিয়েছেন সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযান আপাতত শেষ। পবিত্র ঈদের দিনে এই রাষ্ট্রদ্রোহীর মৃত্যুতে খুব স্বাবাভিক ভাবেই খুশি ভারতপন্থী দেশ প্রেমিক মানুষজন।

  পবিত্র ঈদের ঠিক আগেরদিন, শুক্রবার রাত্রে শ্রীনগরের কাছে জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইতে এক পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়ে। লস্কর-ই-তইবা র জঙ্গিরা শুক্রবার সন্ধায়ে একটি বাসকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। সেখানেই মৃত্যু হয়ে ঐ পুলিশ কর্মীর। ঐ ঘটনাতে আহত আরও তিন পুলিশ কর্মীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই দক্ষিণ কাশ্মীরে অভিযান চালানো হলে লস্কর জঙ্গি ইসফাক পাড্ডারের মৃত্যু হয়ে।

Friday, 1 September 2017

আক্রান্ত রোহিঙ্গা হিন্দু, নেপথ্যে কি রোহিঙ্গা মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীরা?




ওয়েবডেস্কঃ- কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের কক্স-বাজারে আশ্রয় নিয়েছে প্রায়ে ৫০০ জনের মতো রোহিঙ্গা হিন্দুদের একটি দল। এই প্রথমবার রোহিঙ্গা হিন্দু শরণার্থী দেখা গেল। যানা গিয়েছে ২-৩ দিন আগেই ওদের গ্রামে একদল মানুষ এসে আক্রমণ করেছে। মেরেছে, লুঠপাট চালিয়েছে, সব কিছু আগুনে জালিয়ে তছনছ করে দিয়েছে। কিন্তু কারা এই নিরীহ শান্তিপ্রিয় হিন্দুদের আক্রমণ করলো? আর কেনই বা করলো? প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পাওয়া গেলেও সন্দেহের তীর কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলিমদের দিকেই উঠছে।

  বিবিসি বাংলা-র রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলাকারীদের চিনতে পেরেছিলেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে বকুলবালা নামোক এক নিরীহ শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গা হিন্দু শরণার্থী বলেন, কালো পোশাকে আবৃত থাকায় তাদের ভালো ভাবে চেনা যাচ্ছিল না। "কালো কালো পোশাক পরে ওরা এসেছিল। চোখ ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। চিনতে পারিনি। ওরা কাটছিল, মারছিল, গুলি করছিল। সবাইকে মেরে ফেলেছে। ওরা বাংলা ভাষাতে কথা বলছিল, মাঝে মাঝে বার্মিজ ভাষাতেও বলছিল। ওদের হাতে অনেক ধারালো অস্ত্র ছিল। চিকনছড়িতে যখন ওরা এসে পৌছায়, তার আগেই আমরা পালিয়ে যাই"। শিবকুমার নামে আরেকজন জানিয়েছেন, তার মা বাবা পরিবারের সবাইকে ঐ হামলাকারীরা মেরে ফেলেছে। যদিও এই হামলার পর, ঐ অঞ্চল থেকে মায়ানমারের সেনা ৪০০০ হিন্দু ও বৌদ্ধ পরিবারকে নিরাপদ জায়েগাতে সরিয়ে নিয়ে গেছে।

  মায়ানমার সরকারের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পৃথক আর একটি ঘটনাতে তিন শিশু সমেত মোট ছয়জন নিরীহ শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গা হিন্দুদের খুন করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী,"বারোজন হিন্দুদের একটি দল ব্যবসা সেরে মুংটাও টাউনশিপ থেকে মুংটাও-তে নিজেদের ঘরে ফিরছিল। ঠিক সেই সময়ই দুষ্কৃতীদের একটি দল তাদের নির্মীয়মাণ একটি বিল্ডিং-এ ঢুকিয়ে গুলি করে। ঐ ঘটনায়ে ২ জন পুরুষ, ১ জন নারী ও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২ জন নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ৪ জন শিশু পালাতে সক্ষম হলে ৪-৫ মাইল দূরে সেনারা তাদের উদ্ধার করে।"

  যেনে রাখা উচিৎ মায়ানমারে সরকারের তরফ থেকে হিন্দুদের শত্রু বলে চিহ্নিত করা হয়েনি, বৌদ্ধ-দের মত হিন্দুদেরও সমান ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। হিন্দুরা ঐ দেশের সরকার এবং সংবিধান স্বীকৃত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, কারণ রোহিঙ্গা মুসলমানদের মতো হিন্দুরা কোনদিনই ধর্মের নামে মায়ানমারকে টুকরো করে আলাদা দেশের দাবি করেনি। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ধর্মীয় কারনে দেশভাগের দাবিতে সায়ে নেই রোহিঙ্গা হিন্দুদের। মায়ানমারের জাতীয়তাবাদীরা এই জন্য কোনদিনই হিন্দুদের বিরুদ্ধে কোন রকমের অভিযান চালায়েনি, উলটে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ওদের সম্পর্ক ভালো।

  এমতাবস্থায়ে নিরীহ শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গা হিন্দু হত্যায়ে পুরো সন্দেহের তীরটাই রোহিঙ্গা মুসলিমদের দিকে। এর কারণ হিসাবে যে যুক্তি গুলো উঠে এসেছে তা হল,
  • হিন্দু মেরে রোহিঙ্গা মুসলিমরা ভারত সরকারকে মায়ানমারের পাশে থাকার জন্য হুঁশিয়ারি দিতে পারে।
  • এই ঘটনা মায়ানমার সরকার করেছে বলে প্রমাণ করলে ভারত রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পাশে দাঁড়াবে এই আশা রাখতে পারে।
  • হিন্দু বিধর্মী-মুক্ত রাখাইন করলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ধর্মীয়রাষ্ট্র(পাকিস্তানের মতো) তৈরির আন্দোলন বেশ কিছুটা সফলতা পাবে।
যে যে কারণে মনে করা হচ্ছে মায়ানমারের সেনা বা জাতীয়তাবাদীরা এই কাজ করেনিঃ-
  • ঘটনার দুই দিন আগেই ভারত সরকার ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।
  • ভারত পাশে তাই মায়ানমারের জাতীয়তাবাদীদের হিন্দু হত্যা করার কোন কারণই নেই। তাছাড়াও হিন্দুরা কোনদিনই মায়ানমারের জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে যায়েনি।
  • হিন্দুরা ঐ দেশের সরকার এবং সংবিধান স্বীকৃত একটি নিরীহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী(রোহিঙ্গা মুসলিমদের কিন্তু ঐ দেশের নাগরিকত্তই নেই)।
  • তবে সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে, আততায়ীরা বাংলাতে কথা বলছিল আর আইএস জঙ্গিদের মতো পোশাক এবং কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা ছিল। 
   মায়ানমারের জাতীয়তাবাদীরা ঐরকম পোশাক পরে না, ঐ দেশের সেনার পোশাক আইএস জঙ্গিদের মতো-ও না। তাছাড়া মুংটাও-র ঘটনার পর শিশুদের সেনারাই উদ্ধার করেছে এবং আহত মহিলাদের সরকারি হাস্পাতালেই চিকিৎসা চলছে। মায়ানমারের সেনা বা জাতীয়তাবাদীরা এই কাজ করে থাকলে, ওরা কোনদিনই সাক্ষী দেওয়ার জন্য ওদের বাঁচিয়ে রাখতো না। তাই খুব পরিষ্কার ভাবে বোঝা যাচ্ছে এই কাজ মায়ানমারের সেনা বা মানুষে কিন্তু করেনি।

গো-হত্যা নিয়ে রাজ্যকে তুলোধনা কোর্টের




ওয়েবডেস্কঃ- গো-হত্যা নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। গতকালই একটি কেসের শুনানিতে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়াতে তোলা হয়েছে। চ্যানেল হিন্দুস্থানের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশু চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া গো- হত্যা অপরাধমূলক ও বেআইনী। বকরি ইদের আগের দিনই রাজ্য সরকারকে সংবাদ মাধ্যমে এই মর্মে বিজ্ঞাপ্তি জারি করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ১৯৫০ সালের পশু আইন অনুযায়ী যে গরু প্রজনন ও কার্য্যক্ষমতা হারিয়েছে, সেই গরুর জবাই করা যাবে বলে জানায় আদালত। নিয়ম না মেনে যত্রতত্র গরু জবাই করা নিয়ে জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গো-হত্যা যে অপরাধ তা জানাতে রাজ্যকে নির্দেশ দেয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীতা মাত্রে ও বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।

কোর্টের অর্ডার
 

  এর আগে সুপ্রিমকোর্টেও এর নির্দেশ ছিল। রাজ্যের নিজস্ব আইন থাকা সত্ত্বেও তা মানা হয়না। এবিষয়ে রাজ্য জানায় কেঊ এ বিষয় অভিযোগ জানায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেন, কেন বিপদ কে আমন্ত্রণ করবেন? আগে থেকে সতর্ক হোন।
loading...
loading...