Thursday, 24 August 2017

বাংলার শ্রেষ্ঠ তাঁত শাড়ির সম্ভার নিয়ে বসেছে শান্তিপুর বঙ্গের হাট

হঠাৎ আজ ঘুরতে ঘুরতে শান্তিপুর চলে গেলাম, পূজো সামনেই একটু কেনাকাটা করতেই গেছিলাম। সকাল ৬ টায় পৌঁছলাম শান্তিপুর বঙ্গের হাটে। দেখলাম শয়ে শয়ে হাতের তৈরী বাংলার বিখ্যাত তাঁতের শাড়ি নিয়ে বসে আছে ব্যবসায়ীরা। কেনাকাটার লোক ও প্রচুর। পাইকারী ও খুচরা দুই ধরনেরই শাড়ি বিক্রি হয় ওই হাটে।

বড় বড় শপিং মল অথবা এসি দোকানগুলোর থেকে এখানে অনেক ইনেক বেশি আইটেম পাওয়া যায়, তাও খুবই কম দামে। ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইল, শান্তিপুরী সব ধরনেরই শাড়ির বিপুল সম্ভার এই হাটে।

তবে ইদানিং চারিদিকে বন্যা হওয়ার জন্য এই বছরের পুজোর ব্যবসা একটু মন্দা, এই হাটে উত্তরবঙ্গ থেকেও প্রচুর লোক আসে কাপড় কিনতে। কিন্তু ওখানে বন্যার জন্য এখন লোক ঠিকমত আসতে পারছেনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা দুজনেরই মাথায় হাত।

তবুও শাড়ি ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে আছে, ওরা ভালো মতোই জানে বাঙালির সেরা উৎসব তাঁতের শাড়ি ছাড়া বেমানান। তাই সকাল সকাল কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে কিছু বিক্রির আশায় হাটে ছুটছে।

আর ক্রেতা একটু কম আসার কারণেই শাড়ির দামে ফারাক দেখা যাচ্ছে, বিক্রেতাদের এক অংশের মতে সারা বছর তাঁরা পূজোর এই কটা দিনের জন্য অপেক্ষা করে ভালো বিক্রির আশায়। কিন্তু এবছর চিত্রটা একটু ভিন্ন। তাই লাভের পরিমান কমিয়ে দিয়ে যদি বিক্রি বাড়ানো যায় তাহলে একটু শান্তি আসবে।

আপনারা যাঁরা যাঁরা তাঁতের শাড়ি খুবই ভালো বাসেন, তাঁরা এই পুজোর মরশুমে একবার শান্তিপুর হাটে ঘুরেই আসুন না। কম দামে অনেক ভালো ভালো শাড়ি পাবেন। এতে দু পক্ষেরই লাভ, আপনিও কম দামে পাচ্ছেন, আর বিক্রেতারাও বিক্রি করে আনন্দে বাড়ি যেতে পারছেন।

এটুকু বলতে পারি, আপনি ঠকবেন না। কারণ এখানে শাড়ি যেরকম ভালো তেমন দামটাও আপনার হাতের মুঠোয়। তাই দেরি না করে তাড়াতাড়ি চলে যান শান্তিপুর বঙ্গের হাটে। নিজের জন্য এবং নিজের প্রিয়জনদের জন্য কমদামে ভালো ভালো তাঁতের শাড়ি বাড়ি নিয়ে যান।

কলকাতা থেকে যাওয়ার জন্য শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শান্তিপুর লোকাল ধরে শান্তিপুর স্টেশনে নেমে, টোটো করে মাত্র পাঁচ মিনিটের রাস্তা। হাট বসবার সময় প্রতি রবি এবং বৃহস্পতি বার ভোর ৪ টে থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত।



জোব চার্নকের আগেও কি ছিল কলকাতা শহর ?


 লিখেছেন শৌভিক রাতুল বসুঃ- কলকাতার জন্মদিন ২৪শে আগস্ট ১৬৯০ সাল বলে একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা আছে । ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে জোব্ চার্ণক যখন জন্ম নিয়েছেন ব্রিটেনে‚ তখন কলকাতা গোবিন্দপুর সুতানটীর ফিরিঙ্গি দর্শন হয়ে গেছে | আমরা সবাই জানি ব্রিটিশদের আগে এসে বাংলায় বেসাতি এবং বসত দুটোই বসিয়েছিল ওলন্দাজ‚ পর্তুগিজ‚ ফরাসিদের মতো জাতি | তবে কলকাতার থেকেও এদের ঘাঁটি ছিল গঙ্গার ঘাট বরাবর চুঁচুড়া‚ শ্রীরামপুর‚ চন্দরনগরের মতো জায়গা | কিন্তু খাস কলকাতায় ব্রিটিশদের ঢের আগে এসেছিল আর্মেনিয়ানরা |
বড়বাজারের ঘিঞ্জি গলির মধ্যে আছে আর্মেনিয়ান গির্জা | এটা কলকাতার প্রাচীনতম গির্জা | সেই আর্মেনিয়ান হোলি চার্চ অফ নাজারেথ-এ আছে সমাধিক্ষেত্র | কয়েক বছর আগে সংস্করণের সময় সেখানে একটা সমাধি ফলক আবিষ্কৃত হয়েছিল | তাতে লেখা‚ ওই সমাধিতে ঘুমিয়ে আছেন রেজাবীবেহ সুকিয়া ( Rezabeebeh Sookia ) | সমাজে তাঁর স্বামীর পরিচয় "চ্যারিটেবল সুকিয়া" | ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন রেজাবীবেহ | মৃত্যুর আগে কলকাতায় বাস করছিলেন তিনি |

  এই ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দেই জন্ম হয় জোব চার্নকের | ১৬৯০ সনে সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর সনদ কেনা বেচা | অর্থাৎ তাঁর আগমনের ৬০ বছর আগে এক বিদেশি রমণীর মৃত্যু হয়েছে কলকাতায় | আরও কয়েক বছর ধরে ওই আর্মেনীয় ছিলেন এই শহরেরই বাসিন্দা | এখনও অবধি যা আবিষ্কার হয়েছে তাতে বলা যায় এটাই কলকাতার প্রাচীনতম ক্রিশ্চান সমাধি | কলকাতার রূপকার হিসেবে কিন্তু ব্রিটিশদের নাকে ঝামা ঘষে দিতে পারে আর্মেনীয়ানরা | কিন্তু এশীয়-ইওরোপীয় এই জাতি বণিকের মানদণ্ড নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল | রাজদণ্ড ধরতে চায়নি | তাই হয়তো তাদের কৃতিত্ব চাপা পড়ে গেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজের ভোঁ-য়ের শব্দে |

   ইওরোপ এশিয়া সংযোগস্থলে ককেশীয় পার্বত্য অঞ্চলের দেশ হল আর্মেনিয়া | ষোড়শ শতাব্দী থেকে দেশ ছেড়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েন আর্মেনীয়রা | দলে দলে ভাগ হয়ে এগিয়ে যান বিভিন্ন দিকে | তাঁরা ছিলেন সুদক্ষ ব্যবসায়ী | একটি শাখা চলে আসে হিন্দুস্তানে | একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসা বাণিজ্য |

  সম্রাট আকবরের সভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিলেন আর্মেনীয়রা | ১৫৬২ তে তাদের জন্য আগ্রায় গির্জা তৈরি করিয়ে দেন আকবর | পরে জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহান এর আমলেও আর্মেনীয় স্বর্ণযুগ চলতে থাকে | দিল্লি থেকে ভারতের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল এই বেনিয়া জাতি | তারা আমদানি করত পশম‚ অ্যাম্বার‚ কাচ‚ আয়না‚ বন্দুক | বিনিময়ে নিয়ে যেত হিন্দুস্তানি সুতীর পোশাক‚ মশলা‚ দামী পাথর ও মুক্তো |

  চুঁচুড়া হয়ে কলকাতায় এসেছিল আর্মেনীয়রা | খুব সহজেই এই বন্দর শহরের বাণিজ্যের রাশ চলে আসে তাদের মুঠোয়| অষ্টাদশ শতকে তারাই সাহায্য করেছিল ব্রিটিশদের | নতুন শহরে বাণিজ্য করতে | তখন তো আর বোঝেনি খাল কেটে কুমীর আনছে | ১৭১৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হয়ে ওঠে আর্মেনীয়দের প্রধান কেন্দ্র |


   ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয় কলকাতায় আর্মেনীয়দের প্রথম গির্জা | সম্ভবত ওই স্থান ব্যবহৃত হতো সমাধিক্ষেত্রে হিসেবে | তাই রয়ে গিয়েছিল ১৬৩০ সনের সমাধি | তার পাশেই তৈরি হয় গির্জা | ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে তা বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে যায় | ১৭ বছর পরে তৈরি হয় নতুন গির্জা | সেই কাঠামোই এখন দাঁড়িয়ে | বহুবার সংস্কারসাধন হয়েছে| কলকাতায় ছোট ছোট কলোনি করে থাকত আর্মেনীয়রা | প্রথমে উত্তর‚ তারপর মধ্য হয়ে দক্ষিণ কলকাতায় বাসা বানাতে থাকে তারা | ক্রমে স্থানীয় জনজাতির সঙ্গে মিলেমিশে যায় এই বিদেশি সম্প্রদায় | নিজেদের পদবী ছোট করে নেয় | স্মরণীয় হল‚ শেঠ‚ বর্ধন‚ কোচার‚ নারায়ণ‚ নায়ার‚ গওহর এই ভারতীয় পদবীগুলোর উৎস কিন্তু আর্মেনীয়ানরা |

   শুধু ব্যবসা করে মুনাফা লুটে শোষণ করার সম্প্রদায় ছিল না আর্মেনীয়রা | কলকাতাকে সিটি অফ প্যালেস করার পিছনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য | পার্ক ম্যানসন‚ কুইন্স ম্যানসন‚ হ্যারিংটন ম্যানসন‚ নিজাম প্যালেস্‚ গ্র্যান্ড হোটেল এবং কলকাতার আরও অনেক অনেক ল্যান্ডমার্ক বিল্ডিং তাদের তৈরি | আরও আছে‚ আর্মানিটোলা‚ আর্মানিঘাট‚ বলতে গেলে শেষ হবে না | রেজাবীবেহ-র স্বামীর নাম দেখুন | পরিচিতি হল ‘চ্যারিটেবল‘ |

    ২০০১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারদের করা এক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়ে দিয়েছিলো যে ১৬৯০ সালের ২৪ শে আগস্ট ( অর্থাৎ চার্ণকের তৃতীয় দফায় সুতানটিতে পদার্পনের দিনটি ) কলকাতার জন্মদিন নয় ; অন্তত তার একশো বছর আগে রচিত আবুল ফজলের লেখা আইন -ই - আকবরী তে কলকাতার স্পষ্ট উল্লেখ আছে । লিখিত ইতিহাস আরো পিছিয়ে বলছে । উইলিয়াম কেরি সাহেবের মতে জন গিলভিয়া নাম এক পর্তুগিজ ১৫১৮ সালে গোবিন্দপুরে এসেছিলেন, গৌরদাস বসাকের তথ্য অনুযায়ী ১৫৩০ সালে সর্বপ্রথম পর্তুগিজ জাহাজ গঙ্গায় এসে গোবিন্দপুরে শেঠ -বসাক দের থেকে বস্ত্রাদি কিনেছিলেন । নগেন্দ্রনাথ শেঠের এর কলকাতাস্থ তন্তুবনিক জাতির ইতিহাস' বলছে কাছাকাছি সময়ে মুকুন্দরাম শেঠ ও কালিদাস বসাকের প্রথমে কালীক্ষেত্র ও পরে গোবিন্দপুরে এসে বসবাস ও ব্যবসাবাণিজ্যের কথা. আর্মেনিয়ান গির্জার উল্লেখ পাওয়া যায় ১৬৩০ সালে ।

  রোটারডাম মিউনিসিপ্যালিটির আর্কাইভসে হুগলি নদীবন্দরের ওপর অনেক তথ্য পাওয়া গিয়েছে । এতে পাওয়া একটি শব্দ বন্ধ হলো 'ব্যাংক জোল' জোল মানে টোল ট্যাক্স । ওলন্দাজরা আদি গঙ্গার পলি কেটে তার নাব্যতা বাড়িয়েছিল; সেই সুবাদে তারা নৌকা বা জাহাজ থেকে টোল সংগ্রহ করতো । এই ব্যাংক জোল থেকেই আজকের ব্যাঙ্কশাল কোর্ট , অর্থাৎ গোবিন্দপুরে. শুধু কি তাই ? নিজেদের খাবার জন্য মাংস যোগান দিতে তারা একটি আস্ত শুয়োরপালন কেন্দ্র খুলে ফেলেছিলো । সেদিনের ওলন্দাজ পিগাড়ি Town হলো আজকের বরাহনগর

  কিন্তু শহরটি তৈরি হয়েছিল তিনটি গ্রাম নিয়ে , তৃতীয় গ্রামটির নাম ছিল ডিহি কলিকাতা. শহরটির নাম কলিকাতা হলো , অথচ কলিকাতা গ্রাম টি উধাও । গ্রামটি গরহাজির নামটি নয় । ১৭০০ সালের মার্চ মাস থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানুটি ( Chuttanutte ) র বদলে সরকারি চিঠিপত্রে ' ক্যালকাটা' লেখা শুরু করে দিয়েছিলো । হঠাৎ কেন? আইন-ই-আকবরী তে উল্লেখ ছিল বলে? একেবারেই নয় । কারণটা হলো --- ১৬৯৯ সালে ডিহি সুতানুটির খাজনা ছিল ৫০১ টাকা, ডিহি গোবিন্দপুর দিতো ২৩ টাকা, ডিহি কলিকাতা দিতো ৫৬৮ টাকা । যেহেতু কলিকাতা সবচেয়ে বেশি খাজনা দিতো তাই নামকরণ তও করা হয়েছিল সবচেয়ে বেশি রাজস্ব উৎপাদক গ্রামের নামে ।

১৭০৭ সালের কাউন্সিল ডায়রি এন্ড কন্সালটেশন বুক বলছে , কলিকাতার আবাদযোগ্য জমির পরিমান :
ধানক্ষেত্র ৪৮৪ বিঘা ১৭ কাঠা
কলাবাগান ১৬৯ বিঘা ১৮ কাঠা
শাকসবজি ৭৭ বিঘা ১৮ কাঠা
তামাক ৩৮ বিঘা ৭ কাঠা
তুলো ১৯ বিঘা ১৫ কাঠা
বাগান ৭০ বিঘা ৯ কাঠা
ঘাস ১৫ বিঘা ১ কাঠা
বাঁশবাগান ১ বিঘা ১৬ কাঠা
ফুল ৬ বিঘা ২ কাঠা
আউশক্ষেত্র ১১ বিঘা ৯ কাঠা

মহরম, নিয়মের গেরোতে বন্ধ দুর্গা-প্রতিমার ভাসান





কলকাতাঃ- এবছরেও বোধহয় গত বছরের মতই, দুর্গাপূজা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে ছাড় পাবে না। বিগত বছর গুলোর মতন, এই বছরেও মমতা ব্যানার্জীর সরকার মহরমের জন্য দুর্গা প্রতিমা ভাসানের সময় বেঁধে  দিয়ে অনেককেই এসব করার সুযোগ করে দিলেন। ২০১১ তে ক্ষমতাতে আসার পর প্রতিবারই কোন না কোন ভাবে দুর্গা প্রতিমা ভাসানের দিনক্ষণের এবং সময়ের উপর কোন না কোন নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ম-নির্দেশিকা চাপিয়ে এসেছে মমতা ব্যানার্জীর সরকার

  বুধবার কলকাতা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দুর্গাপুজো মহরম এবং ইদ উপলক্ষ্যে সকল উদ্যোক্তাদমকল, পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেখানে এদিন মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন একাদশীর দিন মহরম পড়ায় দিন কোনও দুর্গা পুজোর বিসর্জন দেওয়া যাবে না ছাড়া দশমীর দিন বিসর্জন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে।

   গত বছরও কই ভাবে দশমীর বিসর্জনের সময় বেঁধে দিয়েছিল  রাজ্য সরকার গত বছর দশমীতে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বাড়ির পুজোর প্রতিমা ভাসান দেওয়া নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ তখন তিনটি বাড়ির পুজোর উদ্যোগতারা হাইকোর্টে বিসর্জনের সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত  নির্দেশ দেয় বাড়ির প্রতিমা দশমীর দিন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিসর্জন দেওয়া যাবে কিন্তু সেই কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে ফের রাজ্য সরকার আবেদন করে ডিভিশন বেঞ্চে এবং তখন ডিভিশন বেঞ্চও রাজ্যের আবেদন খারিজ করে আগের রায়ই বহাল রাখে৷ হাইকোর্টের তরফ থেকে রাজ্যকে কড়া ভাষাতে ভর্ৎসনা করে, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তোষামোদের রাজনীতি করার কথাও বলা হয়েছিল। সঙ্গে প্রশ্ন করার হয়েছিল লক্ষৌ থেকে বের হওয়া ভারতের সবথেকে বড় তাজিয়ার সময় ও দিন যদি দশেরার জন্য বদল হতে পারে তবে এই রাজ্যেও একই জিনিস কেন হতে পারে না?

  উল্লেখ্য ২০১১-র পূর্ববর্তী বাম জমানাতে মহরমের জন্য হিন্দু বাঙালির প্রধান পূজার(মতান্তরে উৎসব) পর প্রতিমা নিরঞ্জনের দিনক্ষণ এবং সময় বেঁধে দেওয়া নিয়ে কোন সমস্যা হয়েনি বলে জানিয়েছেন অনেকেই। অনেক নেটিজেনরা প্রশ্নও তুলেছেন, এই রাজ্যে শান্তিতে সম্প্রীতির সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করা একই মানুষজন যখন রয়েছেন, তখন দুর্গা প্রতিমার ভাসান নিয়ে এই রকম নিয়ম-নির্দেশিকার দরকার কি? কারণ যারা পূর্ববর্তী সরকারের সময় এই বাংলার মানুষ মিলেমিশে পাশাপাশি দুটো উৎসবই পালন করে এসেছে, তাদের নতুন করে অসুবিধা হওয়ারতো কথাই নয়ে। তবে বারংবার দুর্গাপূজার ভাসানের উপর এই নতুন নিয়ম-নির্দেশিকা চাপানো কেন?

  তৃণমূলের তরফ থেকে যদিও কোন উত্তর পাওয়া গেছে বলে জানা জায়েনি, তবে মমতা ব্যানার্জী ঐ বৈঠক থেকেই সকলে সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য এবং সুষ্ঠু ভাবে এই দুটো উৎসবকেই পালন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, সঙ্গে প্রতিটি বিষয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশও দিয়েছেন

Monday, 21 August 2017

গত ৪ মাসে এই রাজ্যে কত কৃষক আত্মহত্যা করেছে জানেন? জানলে চমকে যাবেন



গত ৪ মাসে কর্ণাটকে ২৯৭ জন কৃষক ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু আপনারা কি সেটা জানতে পেরেছেন? থুরি, জানবেন কি করে, কারণ আপনাদের তো জানানোই হয়নি। কারণ সেখানে তো বিজেপির সরকার নেই। তাই সেই রাজ্য নিয়ে দালাল মিডিয়ার মাথা ব্যাথা নেই। কোন নেতাও তাদের এলাকায় যায়নি, কেউ সাহাজ্যের হাতও বাড়িয়ে দেয়নি কারণ এই সব খবর তাদের প্রোপাগেন্ডায় খাপ খায় না। তাই আপনাদের গো-মাংস আর উত্তর প্রদেশের শিশু মৃত্যূ নিয়ে ভুলিতে রাখা হয়েছে। আমাদের এই সব অন্নদাতার নির্মম পরিণতি দেখার পর রোজ যখন খবরে শুনি দেশের GDP চিনকে ছাড়িয়ে গেল, ভারত এখন নতুন আর্থিক শক্তি, তখন ভাবি, যে দেশের গরিব কৃষককে আজও ঋণের দায়ে প্রাণ দিতে হয়, সেই দেশ কোনদিনও উন্নতি করতে পারে না।

রাজ্যের কংগ্রেস সরকার কৃষকদের ঋণ মুকুবের ঘোষণা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই মৃত্যূ মিছিল থামানো যায়নি।
এই ক্ষেত্রে সেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির ভূমিকাও ধিক্কার যোগ্য।  আগামী ভোটে রাজ্য দখল করার স্বপ্ন দেখা পার্টি এই ব্যাপারে চুপ। তারা কৃষকদের পাশে থাকারা পরিবর্তে এর রাজনৈতিক লাভ তুলতেই ব্যস্ত। কোন বড় মঞ্চে এই সমস্যা তুলে ধরতে দেখা যায়নি।  এর পেছনে আরেকটা কারণ থাকতে পারে। বিজেপি শাসিত অনেক রাজ্যেও একই অভিযোগ আছে, সেই কারণেও হয়তো তারা সব জেনেও চুপ করে আছে, পাছে এটা তাদের কাছেই বুমেরাং হয়ে ফিরে না আসে।

এদিকে ঋণগ্রস্থ কৃষকদের অনেকেই আত্মহত্যা করার নতুন পন্থা বের করে নিয়েছেন। তারা সরাসরি বিদ্যুতের পোলে উঠে তারের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে। এই একবিংশ শতাব্দীতে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন দেখা ভারতে এর থেকে বড় লজ্জা আর হতে পারে না।
(এই প্রতিবেদন কারোর মিথ্যা মনে হলে আগে গুগুলে খোজ নিয়ে নেবেন)

Friday, 18 August 2017

ডোকলাম নিয়ে প্রবল চাপে চিন




কলকাতা ও দিল্লীঃ- ডোকলামে ভারত ও চিনের মুখোমুখি অবস্থানের প্রায়ে দু’মাস হতে চলল। এখনও এই সমস্যার কোন সুরাহা পাওয়া যায়ে নি। চিনের তরফ থেকে হুমকিরও কোন অভাব নেই। কিন্তু ভারতীয় প্রশাসন অদ্ভুত ভাবে শান্ত। তাদের মুখে একটাই বক্তব্য, আলোচনা করতে হবে এই সমস্যা নিয়ে। যদিও চিন আগেই সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিল তারা এই ইস্যু নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোন আলোচনাই চায়ে না।

  ডোকলাম যে চিনের কাছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং মাথা ব্যাথার বিষয়ে হয়ে উঠেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রায়ে প্রথম থেকেই শুরু করা সাই-ওয়াড় বা মানসিক যুদ্ধেই ভারত হেরে যাবে বলে ভেবেছিল চিন। তাই তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে ওরা প্রথমে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া শুরু করে। এরপর ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর অভিযোগ গুলোকে এমন কি হিন্দুত্ব-কেও এই সমস্যার জন্য দায়ী করে বাম সাম্রাজ্যবাদী দেশটি। যদিও এর ফলেই ফেঁসে গেছে চিন, কারণ ঐ সব ফাঁকা আওয়াজে ভারত ভয়েতো পায়েইনি উল্টে চিনের এই রকম ব্যবহারের জবাব দিতে এক এক করে ১০০ টার বেশি চিনা পণ্যের আমদানি বন্ধ অথবা আমদানির ওপর বারতি শুল্ক অথবা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী শুধুমাত্র রাখি-বন্ধনেই চিনা সামগ্রী বর্জন ও দেশি সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে চিন ১৫০ কোটি টাকার বেশি লোকসান করেছে।

  এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে ডোকলামের এই সমস্যা সমাধানের জন্য যেন চিন এবং ভারত আলোচনাতে বসে। সঙ্গে আরও বলা হয়েছে(অনেকের মতে হুশিয়ারি দিয়ে) চিন যেন এই আলোচনা করার সময়ে কোন ভাবেই সেনা প্রত্যাহারের জন্য এবং চিনের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ভারতকে চাপ না দেয়।

  নেপালকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার উদ্যোগে চিনের কূটনীতিকরা কথা বার্তা শুরু করলে নেপালও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যে তারা কোন ভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে যাবে না।
ভুটানের অঞ্চল ডোকলাম-কে রক্ষা করার জন্য ভারত যা করছে তাতে তাদের সমর্থন রয়েছে একথাও ভুটানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

  ভিয়েতনাম পরিষ্কার ভাবে বলেছে ওরা ভারতের পাশেই রয়েছে।

  গদের উপর বিষ ফোড়ার মতন জাপানও জানালো ডোকলামে চিনের দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে তারাও সার্বিক ভাবে ভারতের পাশে রয়েছে। জাপান ও ভিয়েতনাম চিনের আগ্রাসী মনোভাব সম্পর্কে সব থেকে বেশি ওয়াকিবহল, কারণ এই দুটি দেশের সঙ্গেও চিনের সিমান্ত ঝামেলা চলছেই।

  এই অবস্থায়ে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে তাতে একটা জিনিস পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে চিন ডোকলাম নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পরে গেছে। ওরা এত হুমকি দেওয়ার পর এখন না পারছে সেনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে, আন্তর্জাতিক মহল থেকে দিন দিন ক্রমশ চাপ বাড়ার ফলে এবং ভারতের তরফ থেকে রোজই কিছু না কিছু আর্থিক ঝটকা খেয়ে না পারছে ওখানে সেনার দখলদারিকে বজায়ে রাখতে। এক কথায়ে এখন চিনের অবস্থা সাপের ছুঁচো গেলার মতন। যা বিজেপি-র অনেক কর্মী ও সমর্থকেরা দায়ী করছেন নরেন্দ্র মোদি-র বিদেশ সফরের ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বৃদ্ধি পাওয়া উষ্ণতাকেই।

Thursday, 17 August 2017

ভারতীয় সেনাদের জন্য কি লিখেছেন, সুকান্ত ?

 
 
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ- ইদানিং কালে ভারতীয় সেনাদের নিয়ে রাজনীতির অন্ত নেই। সামান্য রাজনৈতিক ফায়েদা তুলতে, ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে সেনার ত্যাগের প্রতি ন্যুনতম সংবেদনশীলতা না থাকা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা সেনাদের প্রতি কটূক্তি করেই চলেছেন।

এসবের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে যেমন মৌখিক প্রতিবাদ হয়েছে, তেমনই কলমের মাধ্যমেও অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এইসব প্রতিবাদ গুলো প্রত্যেকটিই প্রত্যেকটিকে ছাপিয়ে গেছে । সেনাদেরকে সমর্থন জানিয়ে লেখা হয়েছে একাধিক কবিতাও।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সমর্থনে লেখা এরকমই একটি কবিতাকে তুলে ধরা হচ্ছে আপনাদের সামনে।
 
 
কবিটা-টি লিখেছেন শ্রী সুকান্ত আচার্য। 

।।।পতাকা পাঁ।।।

 
বলতো দেখি পতাকায় মোদের,
কয়টি রঙ আছে?
শিক্ষক এসে শুধালেন হেসে,
দ্বিতীয় শ্রেণীর কাছে।

একসাথে মিলে সব ছেলে বলে
চিৎকার করে জোরে,
তিনটি বর্ন রয়েছে রাঙানো
জাতীয় পতাকা জুড়ে।

শ্রেনীর পিছনে বেঞ্চের কোনে
শিশু ছিল এক বসে,
'পতাকার মাঝে পাঁচ রঙ আছে'
বলল সে মৃদু ভাষে।

কথা তার শুনে বাকি শিশুগনে
হেসে খায় লুটোপুটি।
শিক্ষক রেগে বলেন হেঁকে,
বোঝাও কি করে পাঁচটি?

মাথা নিচু করে ভয়ার্ত স্বরে
সরল শিশুটি বলে,
ওপরে গেরুয়া মাঝখানে সাদা
সবুজ আছে তার তলে।

আর আছে আঁকা গোলাকার চাকা
নীল রং আছে এতে।
শিক্ষক বলে ধরলে এটিকে,
তবুও হচ্ছে চারটে।

অবোধ শিশুটি বলল তখন
রং আছে আরও এক।
লাল লাল ছোপ দাগ দেখা যায়,
ওই পতাকার মাঝে।

বাবাকে যখন আনলে ওরা,
কফিনের ঢাকা খুলে।
জড়ানো ছিল দেহখানা তাঁর,
পতাকা আর ফুলে।

রক্তের দাগে ছিল লাল ছোপ,
ওই পতাকার মাঝে।
এই নিয়ে মোট হল পাঁচটি,
এবার তো ঠিক আছে?

সরল শিশুটির জবাবখানি,
কাঁপিয়ে দিল বুক।
অশ্রু এলো নয়ন ভরে,
শুকনো হল মুখ।

আজও যারা দেশের জন্য,
করছে বলিদান।
স্বাধীনতার শহীদ সম,
তাদের অমর প্রাণ।

হয়েছি স্বাধীন পেরিয়ে গেছে,
সত্তরটি বছর।
দেশ বাঁচাতে যাচ্ছে যে প্রাণ,
রাখছি কি তাঁর খবর?
loading...
loading...